অনলাইন ডেস্ক :
চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে পালানো তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদকে রাজধানীর পান্থপথ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
ডিএমপির উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, সাজ্জাদ চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানাসংলগ্ন হাটহাজারীর শিকারপুর এলাকার বাসিন্দা। গত বছরের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামের অক্সিজেন এলাকায় পুলিশ গ্রেপ্তার করতে গেলে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান তিনি। এ ঘটনায় পুলিশসহ পাঁচজন আহত হন।
এর আগে, ২৯ জানুয়ারি সাজ্জাদ ফেসবুক লাইভে এসে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসিকে হুমকি দেন, যার পরদিন চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার তার বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণা করেন।
সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে পলাতক আরেক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেনের সহযোগী হিসেবে এই সাজ্জাদ অপরাধ জগতে পা রাখেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ১০টি মামলা রয়েছে। বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন অনন্যা, শীতলঝর্ণা, কালারপুল, হাটহাজারীর কুয়াইশ, নগরের চান্দগাঁও হাজীরপুল ও পাঁচলাইশ এলাকায় ১৫ থেকে ২০ জনের বাহিনী নিয়ে দাপিয়ে বেড়ান সাজ্জাদ। চাঁদাবাজি, জমি দখল থেকে শুরু করে সেখানকার পুরো অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।
এছাড়া গেল বছরের ২৯ আগস্ট নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার কুয়াইশ সড়কে প্রকাশ্যে গুলি করে মাসুদ কায়সার (৩২) ও মোহাম্মদ আনিস (৩৮) নামে দুজনকে হত্যা করা হয়।
এই চাঞ্চল্যকর ডাবল মার্ডারের ঘটনার দুই মামলায় সাজ্জাদ ও তার সহযোগীদের আসামি করা হয়। গত ২১ অক্টোবর চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানা এলাকার শমশের পাড়ায় প্রকাশ্যে গুলি করে আফতাব উদ্দিন তাহসিন (২৬) নামে এক যুবককে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে ছোট সাজ্জাদের বিরুদ্ধে। মাইক্রোবাসে চড়ে এসে প্রকাশ্যে গুলি করে পালিয়ে যান তিনি।
ওই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ তাকে খুঁজছিল। এই ঘটনায় থানায় তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানার কালারপুল এলাকায় শটগান হাতে সাজ্জাদ হোসেনসহ আরো দুজন গুলি করতে করতে একটি নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশ করেন। এরপর ওই ভবন মালিকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এছাড়া গত বছরের ৫ ডিসেম্বর নগরের অক্সিজেন মোড় এলাকার একটি সাত তলা ভবনের পঞ্চম তলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদকে ধরতে অভিযানে যায় পুলিশ। সেখান থেকে পুলিশকে গুলি করে পালিয়ে যায় সাজ্জাদ। গুলিতে পুলিশের দুই সদস্যসহ মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এরপরও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
তেজগাঁও থানার ওসি মোবারক হোসেন জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাজ্জাদ পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাকে চট্টগ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।